You are currently viewing জয়তুন তেল কি, জয়তুন তেলের উপকারিতা ও কিভাবে ব্যবহার করবেন
জয়তুন তেল কি, কিভাবে ব্যবহার করবেন - Binni Food

জয়তুন তেল কি, জয়তুন তেলের উপকারিতা ও কিভাবে ব্যবহার করবেন

তেল আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে খাবার রান্না করার জন্য আমাদের তেল ব্যবহার করতে হয়। অন্যদিকে তেলে রয়েছে নানান ধরনের পুষ্টিগুণ যা আমাদের শরীর সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে। বিশেষ করে অলিভ অয়েল বা জয়তুন তেলের উপকারিতা অন্যান্য তেলের তুলনায় অনেক গুন বেশি। আমাদের আজকের লেখায় আমরা জয়তুন তেল কি এবং এর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো। 

জয়তুন তেল কি?

জয়তুন একটি আরবি শব্দ যাকে আমরা ইংরেজিতে অলিভ হিসেবে চিনি। জয়তুন নামক ফল থেকে নিঃসৃত তেলকে অলিভ অয়েল বলা হয়। জয়তুনকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের তরল সোনা বলা হয়। আমরা অনেকেই জয়তুন কে জলপাই এর সাথে মিশিয়ে ফেলি। আসলে জয়তুন এবং জলপাই দুটি ভিন্ন প্রজাতির ফল। জলপাইয়ের বৈজ্ঞানিক নাম Elaeocarpus serratus পক্ষান্তরে জয়তুনের বৈজ্ঞানিক নাম Olea europaea। দুটি ফল দেখতে একই রকম হলেও এদের মধ্যে স্বাদ ও গঠনগত পার্থক্য আছে। 

যাইহোক, জয়তুন তেল বা অলিভ অয়েল রান্না এবং ত্বক পরিচর্যা করার জন্য অনেক জনপ্রিয় তেল। সাধারণত জয়তুন ফল ভালোমতো প্রসেস করে পিষে তা থেকে তেল বের করা হয়। অলিভ অয়েল অনেক স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর তেল। নিয়মিত জয়তুন তেল খেলে শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমে উপকারী কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাছার লিভারের সমস্যা দূর করতে এই তেলের কোন জুড়ি নেই। অন্যদিকে, জয়তুন তেল নিয়মিত রান্নার সাথে খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিচে জয়তুন তেলের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।  

জয়তুন তেলের উপকারিতা

জয়তুন তেল বা অলিভ অয়েলের রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা। নিচে সে উপকারিতা গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

হার্ট সুস্থ রাখে

হার্টের সকল কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখার জন্য এতে নিয়মিত বিরতিহীন রক্ত চলাচলের প্রয়োজন পরে। আমরা বিভিন্ন সময় খাবারের সাথে ক্ষতিকর ফ্যাট গ্রহণ করার কারণে তা হার্টের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করে। নিয়মিত জয়তুনের তেল খাবারের সাথে গ্রহণ করলে তা থেকে অনেক উপকার পাওয়া যায়। সাধারণত অলিভ অয়েল দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এতে হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 

ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে

ক্যানসারের জীবাণু যখন একবার দেহে আক্রমণ করে তখন তা অনেক ভয়াবহ আঁকার ধারণ করে। সাধারণত অভিজ্ঞ ডাক্তারগণ সব সময় ক্যানসার ভাইরাস প্রতিরোধ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ একবার এই রোগ হলে তখন আর ঠিক করা যায় না। যাইহোক, জয়তুন তেলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ই থাকে যা কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। তাছাড়া এই তেলে স্কোয়ালেন এবং টেরপেনয়েড নামক দুটি যৌগ থাকে যা সরাসরি ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে।  

ময়েশ্চারাইজার

ময়েশ্চারাইজার হিসেবে আমরা প্রায় সময় নারিকেল তেল, সরিষার তেল বা অন্য কোন পণ্য ব্যবহার করি। ত্বককে সুস্থ ও আর্দ্র রাখার এই প্রচেষ্টা সব সময় আমাদের জন্য তেমন সুখকর হয় না। সাধারণত প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অলিভ অয়েলের কোনো জুড়ি নেই। এতে থাকা পুষ্টি উপাদান ত্বকের ডেড সেল রিপেয়ার করে, ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, আলট্রাভায়োলেট রেডিয়েশন থেকে ত্বককে রক্ষা করা সহ শরীরের শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। এই কারণে অন্যান্য তেলের থেকে জয়তুন তেল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ভালো কাজ করে। 

ওজন নিয়ন্ত্রণ করে 

অতিরিক্ত ওজন বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ইত্যাদি সমস্যার সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত ওজনের কারণে। তাছাড়া শরীরের ওজন বেড়ে গেলে চলা ফেরায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই সকল অসুবিধা থেকে বাঁচতে নিয়মিত খাবারের সাথে অলিভ অয়েল গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ ইনসুলিন নামক যে হরমোন রক্তে শর্করা বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধি করে তা অলিভ অয়েল নিয়ন্ত্রণ করে। এতে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বাসা বাঁধতে পারে না। শরীরে চর্বি না জমা হওয়ায় ওজন বৃদ্ধি পায় না যা স্থূলতা সমস্যার সমাধান হিসেবে কাজ করে।  

অকাল বার্ধক্য দূর করে 

শরীরের চামড়া যখন থেকে ভাঁজ হওয়া শুরু করে তখন থেকে আমাদের বুড়ো হওয়ার মিশন চালু হয়। তবে নিয়মিত অলিভ অয়েল খাবারের সাথে গ্রহণ করলে বা প্রতিদিন ত্বকে মাখলে শরীরে যে বার্ধক্যের ছাপ পরে তা রোধ করা যায়।বিশেষ করে ভার্জিন অলিভ অয়েল এই বিষয়ে সব থেকে বেশি কাজ করে। সাধারণত দেহের চামড়া টাইট ও সতেজ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জয়তুন তেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। যা শরীরের অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। 

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে 

শরীরের জন্য সব থেকে বেশি ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভার্জিন অলিভ অয়েলের অনেক সুনাম রয়েছে। সাধারণত এই কোলেস্টেরল উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে এবং হার্টের নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি করে।জয়তুন তেল দেহের কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে খারাপ আর ভালোর মধ্যে সমতা বজায় রাখে। এই কারণে নিয়মিত অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে শরীরে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। 

চুলের যত্ন নেয়

চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য জয়তুন তেল অদ্বিতীয়। বিশেষ করে মাথা থেকে খুশকি দূর করার পাশাপাশি মাথার ত্বকের পুষ্টি বৃদ্ধি করা ও চুল সতেজ ও শক্তিশালী করার জন্য জয়তুন তেল ব্যবহার করা হয়। এতে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল উপাদান মাথার ত্বকের পুষ্টিগুণ তারতম্যের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এই কারণে চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য অলিভ অয়েল ব্যবহার করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 

আলসার প্রতিরোধ করে 

আলসার বা পেটে কোন ধরনের ঘা থাকলে তা দ্রুততার সাথে সমাধান করতে হয়। না হলে অনেক কোস্ট ভোগ করতে হয় যা স্বাস্থ্যহানির কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। পক্ষান্তরে অলিভ অয়েলে থাকা পুষ্টিগুণ আলসার প্রতিরোধে অনেক ভালো কাজ করে। জয়তুন তেলের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্বভাব আলসার বা পেটে যে কোনো ধরনের ঘা প্রতিরোধে সহায়তা করে। 

হজম সমস্যা দূর করে 

অলিভ অয়েল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এতে খাবার রুচি ঠিক হয় এবং সহজেই খাবার হজম হয়। বিশেষত জয়তুন তেল নিয়মিত খাওয়ার কারণে তা পেটের সমস্যা গুলো ঠিক করে দেয়। এতে তা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ 

জয়তুন তেল প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যথেষ্ট পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে এই তেল গ্রহণ করলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে থাকা পলিফেনল স্মৃতিশক্তি উন্নত করে। অন্যদিকে অলিভ অয়েল মানসিক চাপ প্রতিরোধ করে এবং ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী।

চোখের উপকার করে

চোখের চারপাশে অলিভ অয়েল মেখে কিছু সময় রেখে দিলে তা রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। এতে দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চোখের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। 

জয়তুন তেল কিভাবে ব্যবহার করবেন?

জয়তুন তেল আপনি খাওয়া ও ত্বকে মাখানো এই দুই পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারবেন। ধাপ দুটো নিচে তা সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করা হল।  

রান্নায়

প্রায় সকল ধরনের খাবার রান্না করার জন জয়তুন তেল ব্যবহার করা যায়। এতে খাবারের স্বাদ অনেক বৃদ্ধি পায়। যাইহোক, রান্নার কাজে অলিভ অয়েল ব্যবহার করার জন্য ভার্জিন, এক্সট্রা ভার্জিন অথবা রিফাইনিং হিসেবে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অ্যাসিডিক হিসেবে পার্থক্য করা যায় যা পরিমাণ মত সকল খাবারে ব্যবহার যোগ্য। 

বাহ্যিক ব্যবহার

জয়তুন তেল চুলের ও ত্বকের যত্নে অনেক ভালো কাজ করে। তো মনমত ফলাফল পাওয়ার জন্য চুলে ও ত্বকে নিয়মিত জয়তুন তেল মালিশের মত করে মেখে নিতে হবে। এতে চুলের গোঁড়া থেকে চুল শক্তিশালী ও উজ্জ্বল হয়ে আসবে। অন্যদিকে ত্বকের মধ্যে থাকা ড্যামেজ স্কিন সেল রিপেয়ার হয়ে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল হবে। 

জয়তুন তেলের রয়েছে নানাবিধ স্বাস্থ্য-উপকারিতা। উপরিউক্ত লেখায় জয়তুন তেল বা অলিভ অয়েল সম্পর্কিত বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। আশা করি লেখাটি পরে জয়তুন এবং জলপাই সম্পর্কে আপনাদের ধারণা পরিষ্কার হয়েছে। 

Leave a Reply