You are currently viewing রসুনের আচার কত প্রকার? রসুনের আচারের উপকারিতা ও তৈরির নিয়ম

রসুনের আচার কত প্রকার? রসুনের আচারের উপকারিতা ও তৈরির নিয়ম

রসুন একটি প্রচলিত মশলা যা খেতে অনেক ঝাঁঝালো কিন্তু এই মসলার অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। বিশেষ করে রসুনের আচার তৈরি করে তা ছোট থেকে বড় সবাই ভাতের সাথে খেতে পারে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই তবে অতিরিক্ত খেলে পেতে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাইহোক আমাদের আজকের লেখায় আমরা রসুনের আচার তৈরি করার নিয়ম এবং এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো। 

রসুনের আচার কত প্রকার?

রসুনের আচার সাধারণত টক ঝাল এবং মিষ্টি হয়ে থাকে। তবে স্বাদ পরিবর্তন করতে চাইলে এই আচারে উপাদান কমিয়ে বা বাড়িয়ে টেস্ট পরিবর্তন করা যায়। যাইহোক, রসুনের আচার আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক জনপ্রিয়। বর্তমান সময়ে এই আচারের রেসিপি পুরো এশিয়া সহ ইউরোপের অনেক দেশেই প্রচলিত আছে। 

সাধারণত রসুনের আচার বড় কোয়া অথবা ছোট কোয়ার রসুন দিয়ে তৈরি করা হয়। এর সাথে চিনি এবং তেঁতুল মিশিয়ে টক ঝাল মিষ্টি স্বাদের আচার তৈরি করা হয়। রসুন তরকারির সাথে অথবা কাঁচা খাওয়া যায়। রসুনের আঁচার অনেক ভাবেই তৈরি করা হয়। যেমন গোটা রসুনের আঁচার, কোয়া রসুনের আঁচার, আম বা অন্য কোন উপাদানের সাথে মিক্স করে রসুনের আঁচার তৈরি করা হয়। নিচে রসুনের আচারের স্বাস্থ্য উপকারিতা বিস্তারিত আলোচনা করা হল। 

রসুনের আচারের উপকারিতা

রসুনের আচারের উপকারিতা

সচরাচর রসুনকে আমরা যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধিকারক হিসেবে চিনলেও এর রয়েছে ব্যাপক পুষ্টি উপাদান। মানব দেহের জন্য উপকারী সকল ধরনের পুষ্টি উপাদান এর মধ্যে নিহিত। নিচে রসুনের আচার খেলে আমরা কি কি উপকার পাবো অথবা এটি আমাদের কি উপকারে লাগে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক 

রসুনকে বলা হয় প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। কারণ এর মধ্যে সকল ধরনের রোগ প্রতিরোধী উপাদান থাকে যা কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। সাধারণত রসুনে ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং বিভিন্ন প্রকারের এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব উপাদান দেহের বিভিন্ন রোগ সারিয়ে তুলে এবং পুষ্টি উপাদানের অভাব পূরণ করে। 

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে 

মানব দেহে দুই ধরনের কোলেস্টেরল পাওয়া যায় যার একটি উপকারী এবং অপরটি অপকারী। অপকারী কোলেস্টেরল এলডিএল দেহের জন্য অনেক ক্ষতিকারক বিশেষ করে হার্টের জন্য। কারণ এই কোলেস্টেরল হার্টের পেশি দুর্বল করে দেয় এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। তবে নিয়ম করে রসুনের আচার খেলে তাতে থাকা পুষ্টি উপাদান ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে আনে এবং উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। 

হার্ট সুরক্ষিত রাখে 

হার্ট মানব দেহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর সুরক্ষিত থাকা অনেক জরুরি না হলে শরীর অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রসুনের আচার রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং হার্টে সঠিক মাত্রায় রক্ত সঞ্চালন করে। এতে হার্টের মাংসপেশী সতেজ এবং কর্মক্ষম থাকে। যা হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত এবং স্বাভাবিক রাখে। রসুনের আচারে সরিষার তেল থাকে যা রসুনের পুষ্টিগুণের মাত্রা বাড়িয়ে একে আরও বেশি পুষ্টিকর করে তোলে। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে 

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজন পরে প্রাকৃতিক উপাদানের। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রকারের খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন ও মিনারেল দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সে দিক থেকে রসুনের আচার দেহে সকল ধরনের পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করার জন্য একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম। তাছাড়া রসুনের আচারের সাথে সরিষার তেল মিশ্রিত থাকায় তা দেহের জন্য প্রয়োজনীয় এন্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। 

খনিজের চাহিদা পূরণ করে 

সরিষার তেল এবং রসুনে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন থাকে। এই সকল উপাদান শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সরবরাহ করে। এই কারণে রসুনের আচারকে খনিজ পদার্থের উৎকৃষ্ট সরবরাহকারী বলা হয়। 

রুচি বৃদ্ধি করে 

প্রায় সকল ধরনের আচার মুখরোচক হয় যা রুচি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। কারণ কোন খাবারের কালার, ঘ্রাণ, স্বাদ ও পুষ্টি উপাদানের উপর নির্ভর করে মস্তিষ্ক মুখের রুচি বৃদ্ধি করে। সে দিক থেকে আচারের নাম শুনলেই আমাদের মুখে পানি চলে আসে। সেই আচার যদি আবার হয় রসুনের আচারের মত টক, ঝাল, মিষ্টি তাহলে তো কোনো কথাই নেই। 

রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে 

রক্ত চলাচল শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক পদ্ধতিতে রক্ত চলাচল সংঘটিত হলে তা শরীরের মরা কোষ জীবিত করে। যে কারণে অপুষ্টি দূর হয় এবং গঠনগত নানা সমস্যা দূর হয়। অন্যদিকে সঠিক মাত্রায় রক্ত চলাচল হওয়ায় হৃৎপিণ্ড পরিপূর্ণ রক্ত সরবরাহ পায়। যা আমাদের সর্বোপরি শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। 

হাড় মজবুত করে 

রসুন এবং সরিষার তেল শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ করে। এই উপাদান গুলো হাড়, মাংসপেশি ও অস্থিমজ্জার গঠন ঠিক করে। অন্যদিকে হাড়ের বোন ডেনসিটি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সঠিক মাত্রা বজায় রাখে। এতে হাড় শক্তিশালী থাকে এবং হাড়ের ব্যথা নিরাময় হয়। 

জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে 

জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য যে সকল খাবার পাওয়া যায় তাদের মধ্যে রসুন অন্যতম। রসুনের সাথে যখন সরিষার তেল এবং অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে আচার তৈরি করা হয় তখন এর পুষ্টি উপাদান আরও বৃদ্ধি পায়। এই কারণে প্রতিদিন খালি পেতে কাঁচা রসুন খাওয়া সম্ভব না হলেও খাবারের সাথে রসুনের আচার খাওয়া যেতে পারে। 

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে 

সকল ধরনের আচারের মধ্যেই হজম শক্তি বৃদ্ধি করার ক্ষমতা আছে। কারণ আচার তৈরি করার সময় যে সকল উপাদান এবং মশলা ব্যবহার করা হয় তা হজমের এনজাইম বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে টক স্বাদের আচার সব থেকে বেশি হজমে সহায়তা করে। সে দিক বিবেচনা করলে রসুনের আচার হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

রক্তস্বল্পতা দূর করে 

রসুন একটি প্রাকৃতিক আয়রনের আধার। অর্থাৎ রসুনে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে যা দেহে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। রক্ত বেশি উৎপাদিত হলে তা ব্লাড সার্কুলেশনে সহায়তা করে এবং মানুষিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। এই কারণে রসুনের আচার রক্ত স্বল্পতার রোগীদের জন্য বেশি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। 

বাত ব্যথা দূর করে 

যে কোন ধরনের ত্বকের প্রদাহ এবং বাত ব্যথা উপশম করার জন্য সরিষার তেল অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যখন রসুনের আচার খাওয়া হয় তখন সরিষার তেল এবং রসুনের উপাদান গুলো প্রদাহ সহ সকল ধরনের ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে। 

ক্যালরি বার্ন করতে সাহায্য করে 

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে রসুন দেহের চর্বি কমাতে কাজ কাজ করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত জমা থাকা ক্যালোরি যা চর্বি বৃদ্ধি করে তা বার্ন করার জন্য রসুনের আচার কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এই কারণে ওজন কমানো থেকে শুরু করে বাড়তি মেদ কমাতে পরিমাণ মত রসুনের আচার খাওয়া যেতে পারে। 

রসুনের আচার তৈরির নিয়ম

রসুনের আচার তৈরির নিয়ম

রসুনের আচার তৈরি করা অনেক সহজ। অল্প খরচে এবং অল্প সময়েই রসুনের আচার তৈরি করা যায়। নিচে রসুনের আচার তৈরি করার নিয়ম আলোচনা করা হলো। 

উপকরণঃ 

পরিমাণ মত রসুন, সরিষার তেল, পাঁচ ফোড়ন মশলা, আদা ও রসুন বাটা, লবণ, শুকনা মরিচ, মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, চিনি, তেঁতুলের মাড় বা কাদ (পানিতে ভেজানো তেঁতুল কচলিয়ে সেই পানি ছেঁকে যা তৈরি করা হয়), ধনিয়ার গুঁড়া এবং ভিনেগার। 

রেসিপিঃ 

প্রথমে পরিমাণ মত রসুন নিয়ে তা ছিলিয়ে কোয়া বের করে নিতে হবে। তারপর সেই কোয়া গুলো ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি প্যানে বা কড়াইয়ে পরিমাণ মত সরিষার তেল দিয়ে গরম করে নিতে হবে। হালকা আঁচে তেল গরম হওয়ার পর তাতে পাঁচ ফোড়ন মশলা এবং রসুন ও আদার বাটা দিয়ে হালকা কষিয়ে নিতে হবে। 

তারপর সেখানে পরিমাণ মত লবণ ও ৫-৬ তা শুকনা মরিচ দিয়ে রসুনের কোয়া দিয়ে নিতে হবে। এরপর হালকা আঁচে কিছুসময় কষিয়ে নিতে হবে। এই সময় ঘন ঘন নেড়ে নিতে হবে এবং পরিমাণ মত হলুদের গুঁড়া এবং মরিচের গুঁড়া দিতে হবে। ঘন ঘন নেড়ে নিতে হবে না হলে সবগুলো রসুন সিদ্ধ হবে না। 

যখন কড়াই থেকে তেলের ফেনা ধীরে ধীরে কমে যাবে তখন চিনি এবং তেঁতুলের কাদ দিতে হবে। এখন একটু জোরে জ্বাল দিতে হবে যাতে তেঁতুল থেকে বের হওয়া পানি শুকিয়ে যায়। এখন ভালো করে রসুন গুলো নেড়ে সব উপাদান মিশিয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে রসুন গুলো যেন একদম গলে না যায়। যখন রসুন গুলো সিদ্ধ হয়ে যাবে তখন আচার একটি কাচের জারে ঢুকিয়ে ৪-৫ দিনের মত রেখে দিতে হবে। 

Bornali Akter Borno

Bornali Akter Borno is a passionate food enthusiast and entrepreneur. From an early age, her love for culinary exploration led her to experiment with flavors and ingredients, ultimately inspiring her to work with Binni Food, an e-commerce brand dedicated to offering premium quality Organic Food and delectable treats to food enthusiasts in Bangladesh. Bornali's relentless pursuit of flavor and commitment to excellence have earned her recognition in the culinary world. Her journey is a testament to the power of passion and perseverance, showcasing how dedication to one's craft can lead to entrepreneurial success and culinary innovation.

Leave a Reply