You are currently viewing বাংলাদেশের ২০ টি জনপ্রিয় খাবারের তালিকা

বাংলাদেশের ২০ টি জনপ্রিয় খাবারের তালিকা

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নিজস্ব জনপ্রিয় খাবারের ভাণ্ডার রয়েছে। এমনকি কিছু খাবার তার জেলার নামেই সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছে। যেমন আমরা বগুড়ার অসাধারণ দইয়ের বিষয়ে জানি যা পুরো দেশ জুড়েই বিখ্যাত। এমন আরও অনেক খাবার আছে যা প্রমাণ করে যে আমরা ভোজন রসিক সংস্কৃতিমনা মানুষ। নিচে বাংলাদেশের ২০ টি জনপ্রিয় খাবারের তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

বাংলাদেশের ২০ টি জনপ্রিয় খাবারের তালিকা

বাঙালি একটি ভোজন প্রিয় জাতি। যদিও আমরা আমাদের মাছে ভাতে বাঙালি বলি তবে এই দুইটি বাদেও আমাদের খাদ্য তালিকায় আরও অনেক মুখরোচক খাবার আছে। নিচে বাংলাদেশের ২০ টি জনপ্রিয় খাবারের সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো। 

বিরিয়ানি

বিরিয়ানি একটি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী খাবার। বিরিয়ানি পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এর অসাধারণ স্বাদ এবং গন্ধের কারণে সারা দেশে এর জনপ্রিয়তা সবার তুঙ্গে। বিয়ে বাড়ি থেকে ছোট বড় সকল আচার-অনুষ্ঠানে বিরিয়ানি না থাকলে কোন আনন্দই হয় না। বাংলাদেশের মধ্যে পুরান ঢাকা বিরিয়ানির জন্য সব থেকে বেশি বিখ্যাত। এখানে আপনি বিভিন্ন প্রকৃতির বিরিয়ানি এবং পোলাও পাবেন।  তাছাড়া পুরো দেশের যে কোনো জায়গায় রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি খেতে পারবেন। 

মোরগ পোলাও 

মোরগ আর পোলাও এর চাল দিয়ে তৈরি পোলাওকে মোরগ পোলাও বলে। বাংলাদেশের বিভিন্ন হোটেল এবং রেস্টুরেন্টে এই খাবার পাওয়া যায়। সাধারণত মোরগকে চারভাগ করে তার অংশ আলাদা রান্না করে প্লেট ভর্তি পোলাও এর ভেতরে দিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লেবু ও শসা দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। দাম এবং স্বাদের দিকে লক্ষ করলে বোঝা যায় যে কত অল্প খরচে এরকম একটি ফুল মিল খাওয়া যায়। 

চটপটি 

বাংলাদেশে যতগুলো স্ট্রিট ফুড আছে চটপটি তাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি খাবার। সাধারণত রাস্তার ধারে বা কোনো দৃষ্টিনন্দন জায়গায় চটপটির দোকান পাওয়া যায়। চটপটি তৈরি করা হয় ছোলার ডাল, ফুচকার পাঁপর, ডিম এবং তেঁতুলের টক দিয়ে যা খেতে অনেক সুস্বাদু এবং স্পাইসি। তাছাড়া মেয়ে মানুষ চটপটি খেতে পুরুষের থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি পছন্দ করে।  

ফুচকা 

ফুচকা

চটপটি যেমন বাংলাদেশের স্ট্রিট ফুড হিসেবে অনেক জনপ্রিয় ঠিক তেমনি ফুচকা এ দেশের মানুষের পছন্দের খাবার। ছোট থেকে বড় সবাই তেঁতুলের টক ভর্তি করা একেকটি ফুচকা মুখে পুরে চোখ বন্ধ করে স্বাদ গ্রহণ করে। যাইহোক, ফুচকা তৈরি করা হয় পাঁপর, আলু ভর্তা, শসা, ডিম ও তেঁতুলের টক দিয়ে। সাধারণত প্রতিটি ফুচকা পাঁপরের ভেতরে ফুঁটা করে তার মধ্যে আলু, ডিম এবং শসা মিলিয়ে তৈরি করা ভর্তা রাখা হয়। তারপর তা তেঁতুলের জলে ডুবিয়ে খাওয়া হয়।  

হালিম

তন্দুরি রুটি বা নান রুটি দিয়ে খাওয়ার জন্য হালিম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার। রুটি ছাড়াও আপনি এমনি বা অন্য কোনো কিছু দিয়ে হালিম খেতে পারবেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন হোটেল এবং রেস্টুরেন্টে ফাস্টফুড হিসেবে খাসির এবং গরুর হালিম পাওয়া যায়। আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করে খাসি বা গরু দিয়ে তৈরি হালিম খেতে পারেন। 

খিচুড়ি 

ভুনা খিচুড়ি একটি অসাধারণ খাবারের নাম। এটি একটি অনেক জনপ্রিয় এবং পুষ্টিকর খাবার। ভুনা খিচুড়ির একটি বিশেষত্ব হলো এটি আপনি খালি অথবা যে কোন মাংস দিয়েই খেতে পারবেন। বৃষ্টির দিনে এই খিচুড়ির কোনো বিকল্প নাই। যাইহোক ভুনা খিচুড়ি তৈরি করার জন্য আপনার চাল, ডাল, তেল সহ অন্যান্য রান্নার উপকরণ প্রয়োজন পরবে। এর স্বাদ আরও বৃদ্ধি করতে আপনি সাথে মাংস মিশ্রণ করে দেখতে পারেন। 

দই 

দই একটি দুগ্ধজাত খাবার। বগুড়ার দই পুরো দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়। কারণ এই দই স্বাদে হয় মিষ্টি এবং হজম শক্তি বাড়াতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কোনো অনুষ্ঠানে ভারী খাবার খাওয়ার পর একটু দই খেলে অস্বস্তি লাগে না। তাছাড়া টক দই ব্যবহার করে অনেক সুস্বাদু রান্না করা যায়। 

রসমালাই 

রসমালাই একটি দুগ্ধজাত মিষ্টি জাতীয় খাবার। রসমালাই তৈরি করা হয় দুধের ছানার সাথে হালকা একটু ময়দা এবং চিনি মিশ্রণ করে। এটি দেখতে যেমন রসালো হয় তেমনি খেতে অনেক সুস্বাদু। ছোট থেকে বড় সবাই রসমালাই খেতে পছন্দ করে। বিভিন্ন মিষ্টির দোকান বাদেও রেস্টুরেন্টে উন্নতমানের রসমালাই পাওয়া যায়।

মেজবানি গরুর মাংস 

মেজবানি গরুর মাংসের মেজবান নামটি এসেছে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা থেকে। সেখানে অতিথি আপ্যায়নের প্রথাকে মেজবানি বলা হয়। যাইহোক মেজবানি গরুর মাংস রান্না করার জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এর সাথে সাথে একটি বিশেষ উপকরণ দিতে হয় যা খাবারের স্বাদ অনেকগুণ বৃদ্ধি করে। 

কাবাব

কাবাব একটি মোঘল আমলের সুস্বাদু খাবারের নাম। বর্তমান সময়ে পুরো দেশ জুড়ে এর স্বাদের জন্য কাবাব অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মাংসের পাশাপাশি মাছ দিয়েও নানা পদের কাবাব তৈরি করা যায়। বাংলাদেশে সব থেকে বেশি শিক কাবাব, টুন্ডা কাবাব, টিক্কা কাবাব, রেসমি কাবাব, বটি কাবাব, টেংরি কাবাব সহ অনেক মাছের কাবাব জনপ্রিয়। 

ইলিশ মাছ

ইলিশ মাছ

আমরা জানি বাঙালি মানে হলো মাছে ভাতে বাঙালি এবং ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। নদী মাতৃক দেশে ইলিশ মাছ অনেক জনপ্রিয় একটি খাবার। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়নে ইলিশ মাছের নানান পদ পরিবেশন করা হয়। এই মাছের সাথে আমাদের সবার অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। 

বাকরখানি 

বাকরখানি একটি সকাল এবং বিকালের নাস্তা খাওয়ার আইটেম। এই খাবার পুরান ঢাকায় সব থেকে বেশি প্রচলিত। বাকরখানি তৈরি করা হয় আটা/ময়দা, লবণ, তেল এবং চিনি দিয়ে তৈরি করা হয়। এ কারণে এই খাবার মিষ্টি ও নোনতা দুই ভাবেই পাওয়া যায়। অন্যদিকে দুধ চায়ের সাথে বাকরখানি খেতে অনেক সুস্বাদু। 

মাংসের কালাভুনা 

মাংস দিয়ে তৈরি করা এটি একটি বিশেষ খাবার। দেশের বিভিন্ন খাবার হোটেলে প্রখ্যাত মাংসের কালাভুনা পাওয়া যায়। সাধারণত কালাভুনা বলতে আমরা গরু ও খাসির মাংস বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করে পরিবেশন করাকে বুঝি। এটিও একটি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কিন্তু জনপ্রিয় খাবার। 

শুঁটকি 

বিভিন্ন মাছের শুঁটকি আমাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুঁটকি যেমন সুস্বাদু তেমনি এতে রয়েছে অনেক অনেক পুষ্টিগুণ। সাগর এলাকায় বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি পাওয়া যায় যা খেতে অনেক সুস্বাদু। অনেকেই নিজস্বভাবে বাসায় মাছের শুঁটকি তৈরি করে ভুনা হিসেবে বা তরকারিতে দিয়ে খেতে পছন্দ করে। 

চিংড়ি মাছের মালাইকারী 

বড় বড় চিংড়ি মাছের সাথে নারিকেল মিশিয়ে চিংড়ি মাছের মালাইকারী রান্না করা হয়। এটি দেখতে যেমন রসালো তেমনি খেতে অনেক সুস্বাদু। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে এই চিংড়ি মাছের মালাইকারী এর স্বাদের কারণে অনেক বেশি জনপ্রিয়। 

পিঠা 

পিঠা বাঙালি জাতির একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে শীতকালে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পিঠা-পুলির আয়োজন করা হয়। সাধারণত আমাদের দেশে পাটিসাপটা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা সহ আরও অনেক প্রকারের পিঠার প্রচলন আছে। 

বিভিন্ন ফল 

এদেশের জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, আনারস সহ আরও অনেক সুস্বাদু ফল রয়েছে। বিদেশি ফলের পাশাপাশি বাংলাদেশে দেশি ফল ব্যাপকহারে জনপ্রিয়। 

পায়েস 

চালের সাথে সমান হিসেবে দুধ মিশিয়ে তাতে নারিকেল, কিশমিশ, চিনি এবং লবণ মিশিয়ে সুস্বাদু পায়েস তৈরি করা হয়। এটি আমাদের একটি অতিপরিচিত মিষ্টি জাতীয় খাবার। ছোট থেকে শুরু করে বয়স্ক সকলেই পায়েস খেতে পছন্দ করে। 

লাচ্চি

গ্রীষ্মকালে অসহ্য গরম থেকে শরীরকে রক্ষা করার জন্য লাচ্চি অদ্বিতীয়। দই, চিনি, পানি ও গুঁড়া দুধ মিলিয়ে লাচ্চি তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে তা বরফের সাথে বা ফ্রিজে রেখে তারপর পরিবেশন করা হয়। রেস্টুরেন্টগুলোতে লাচ্চি অনেক কমন একটি বিষয়। 

বোরহানি 

পুদিনা পাতা এবং দই সংমিশ্রণ করে বোরহানি নামক একটি অতুলনীয় পানীয় তৈরি করা হয়। ভারী খাবার খাওয়ার পর বোরহানি পান করলে শরীরের অস্বস্তি দূর হয় এবং হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

এখানে বাংলাদেশের বিখ্যাত ২০টি খাবারের নাম এবং এদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি লেখাটি পরে আপনি আমাদের খাবারের প্রাচুর্যটা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পেরেছেন। 

Bornali Akter Borno

Bornali Akter Borno is a passionate food enthusiast and entrepreneur. From an early age, her love for culinary exploration led her to experiment with flavors and ingredients, ultimately inspiring her to work with Binni Food, an e-commerce brand dedicated to offering premium quality Organic Food and delectable treats to food enthusiasts in Bangladesh. Bornali's relentless pursuit of flavor and commitment to excellence have earned her recognition in the culinary world. Her journey is a testament to the power of passion and perseverance, showcasing how dedication to one's craft can lead to entrepreneurial success and culinary innovation.

Leave a Reply