You are currently viewing বরই আচার তৈরির নিয়ম, উপকরণ, উপকারিতা এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি
বরই আচার তৈরির নিয়ম, উপকরণ, উপকারিতা এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি

বরই আচার তৈরির নিয়ম, উপকরণ, উপকারিতা এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি

মৌসুম ফুরলেই আর মজার স্বাদের টক মিষ্টি বরই পাওয়া যায় নাহ। তবে বরই শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষন করা যায় , সেই সাথে শুকনো বরই দিয়ে তৈরি করা যায় মজাদার টক ঝাল মিষ্টি স্বাদের বরই আচার। বরই আচার খুবই লোভনীয় একটি খাবার। ভাত, রুটি ,পরটা, খিচুরি কিংবা বিরিয়ানির সাথে একটু বরই আচারের কম্বিনেশন টা দারুন!

তবে বাজার থেকে কিনে আনা বরই আচার কতটুকু তৃপ্তি সহকারে খেতে পারি আমরা? বাজার থেকে আপনি যতো নামি দামী আচারই কিনেন না কেন এসব আচারে ঘরোয়া স্বাদ একদম নেই বললেই চলে।তাহলে সমাধান কী? আর তৃপ্তি সহকারে খাওয়া যাবে এমন আচারই বা আমরা কোথায় পাবো? ঘরোয়া ভাবে তৈরি সকল আচারের সমারহ পাবেন আমাদের বিন্নি ফুডে।

বরই আচার তৈরির উপকরণ

বরই আচার তৈরির উপকরন
  • ফ্রেশ শুকনো বরই
  • খাটি সরিষার তেল
  • গুড়/ লাল চিনির সিরকা
  • পাঁচফোরন
  • দারুচিনি
  • তেজপাতা
  • লবন
  • মরিচগুড়া
  • ভাজা জিরার গুড়াধনিয়া গুড়া
  • সামান্য রসুন এবং আদা বাটা
  • বিন্নি ফুড স্পেশাল সিক্রেট মশলা

যেভাবে তৈরি করা হয় মজাদার টক ,ঝাল মিষ্টি বরই আচার

বরই আচার তৈরির জন্য প্রথমে বাছাইকৃত ফ্রেশ শুকনো বরই নির্বাচন করা হয়। এরপর বরইগুলোর বোটা ছাড়িয়ে বেশ ভালো ভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া হয় এবং প্রায় ২ ঘআট্র জণ্য পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়।এবার একটি কড়ায়ে সরিষার তেল গরম করে এতে সকল মশলা  ভালোভাবে মিক্সড করে নেওয়া হয়। তারপর মশলা কষানো শেষে এতে ভেজানো শেষে ছেকে রাখা বরই এবং সিরকা এড করা হয়। এবার অল্প আচে বরই গুলোকে নেড়ে  আচার তৈরি করে নেওয়া হয়। আচারের রস শুকিয়ে আচার টি ঘবরন হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে একট বড় ট্রে তে রেখে আচার গুলো রোদে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকিয়ে নেওয়া হয়।

বরই আচারের উপকারিতা

  • বরই আচার রুচি বৃদ্ধি তে সাহায্য করে।
  • বরই আচার খেলে এটি আপনার ভিটামিন সি এর ঘাটটি পুরনে সাহায্য করবে।
  • বরই আচার মৌসুমি ঠান্ডা, জ্বর এর প্রকোপ থেকে বাচতে সাহায্য করে।
  • বরই নিদ্রাহীনতা দূর করতে এবং স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
  • এছাড়াও বরই রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে কাজ করে।
  • বরই খেলে যকৃতের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

আচার পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া  যায় না। বর্তমানে খাবারের একটা বিশেষ উপাদানে পরিণত হয়েছে আচার। তরকারী স্বাদ না হলেও কিন্তু পেটে খাবার ভরতে এর জুড়ি নেই। আমাদের দেশে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরি হয়। আজকাল সব জায়গায় কিন্তু বরই পাওয়া যাচ্ছে। শুধু কাঁচা নয়, বরং শুকনো বরই দিয়েও বানিয়ে ফেলা যায় মজাদার বরই আচার।

খিচুড়ি বা ভর্তা ভাতের সাথে  বরই-এর ঝাল-মিষ্টি আচার না হলে তৃপ্তি আসে না। আমাদের আচারটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ঘরোয়া পরিবেশে তৈরি করা হয়। তাই আমাদের আচারটি  স্বাদ ও মানে অনন্য।
বরই ফলের বহু গুণাগুন রয়েছে। কিন্তু ফলটি সুধু একটি নিদর্ষ্ট সময়েই পাওয়া যায়। বরইএর আচার বরই সংরক্ষণের একটি আদি উপায় বলা যায়। বরই এ যেসব গুণাগুণ পরিলক্ষিত হয়,বরই আচারেও সেসব গুণাগুন কমবেশি পাওয়া যায় । যেমনঃ

আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রজাতির বরইয়ে বিদ্যমান ভিটামিন সি গলার ইনফেকশন জনিত অসুখ যেমন-টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বাতে ঠাণ্ডাজনিত লালচে ব্রণের মতো ফুলে যাওয়া, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া রোধ করে।

যকৃতের কাজের ক্ষমতা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয় বরই।
বরই এর রস অ্যান্টি ক্যান্সার ড্রাগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।এই ফলে রয়েছে ক্যানসার সেল, টিউমার সেল, লিউকোমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ শক্তি।

উচ্চরক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই ফল যথেষ্ট উপকারি।রক্ত বিশুদ্ধকারক হিসেবে এই ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। ডায়রিয়া, ক্রমাগত মোটা হয়ে যাওয়া,রক্তের হিমোগ্লোবিন ভেঙে রক্তশূন্যতা তৈরি হওয়া, ব্রঙ্কাইটিস-এসব অসুখ দ্রুত ভালো করে বরই। খাবারে রুচি আনার জন্যও এই ফলটি ভূমিকা পালন করে।
মৌসুমি জড়,সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে গড়ে তোলে প্রতিরোধ।

স্ট্রেস হরমোন আমাদের মনে অবসাদ আনে, দুঃখ-কষ্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, নিদ্রাহীনতা তৈরি করে। নিদ্রাহীনতা দূর করে   এবং স্ট্রেস হরমোন নিসরনের মাত্রা কমায়।

বরই আচার সংরক্ষন পদ্ধতি

বরই আচার সংরক্ষন পদ্ধতি
  • বৈয়ামের মুখ ঠিকঠাক মতো বন্ধ না করলে আচার পচে দুর্গন্ধ হয়।
  • বৈয়ামগুলো সপ্তাহে একদিন পরীক্ষা করতে হবে। আচারে পচন ধরলে বৈয়াম ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • নোংরা হাত বা আঙুলি দিয়ে আচার তুললে আচার নষ্ট হয়ে যায়।
  • আচার তুলতে ভেজা চামচ ব্যবহার করলে তা নষ্ট হয়ে যায়।
  • স্যাঁতসেঁতে ঘরে রাখলে জাম্প ধরে আচার নষ্ট হয়ে যায়।
  • আচার ঘরে ফেলে রাখা যাবে না, মাঝে মাঝে রোদে দিতে হবে।
  • বৈয়ামে আচার ফুলে ওঠা, ছাতা পড়া, রঙ বদলে যাওয়া আচার দূষিত হওয়ার লক্ষণ বলে মনে করতে হবে।
  • চিনি, গুঁড়, লবণ, সিরকা, তেল ও মসলাকে সংরক্ষণের উপাদান বলে।
  • মসলা মেশানোর ফলে জীবাণু সক্রিয় হতে পারে না। ফলে সংরক্ষিত আচার অনেকদিন ভালো থাকে।
  • আচারে সিরকা মিশানো রয়েছে, এতে আচার দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যাবে।
  • আচার ফ্রিজেও সংরক্ষণ করা যায়।
  • আচার রোদে দিলে বৈয়ামের ঢাকনা খুলে দেবেন। বৈয়ামের মুখে পাতলা কাপড় বেঁধে দিলে আচারে ধুলাবালি পড়বে না।
  • এ নিয়মগুলো মেনে চলুন, দেখবেন বছরের পর বছর আচার নষ্ট হবে না।

বিন্নি ফুডের আচারের বিশেষত্ব্য

বাছাইকৃত সেরা মানের বরই থেকে আমাদের বরই আচার তৈরি করা হয়। অনেক সময় দেখা যায় বাজারে থাকা নিম্ন মানের শুকণো বরই দিয়ে আচার তৈরি করা হয়। ঐ সকল শুকনো বরই অধিকাংশ নষ্ট এবং বালি্যুক্ত হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা শিতের মৌসুমেই গাছপাকা বড়ই গুলো নিজস্ব তত্বাবধানে শুকিয়ে সংরক্ষন করে থাকি পরবর্তিতে আচার তৈরির জন্য।

আচারে ব্যবহার করা সরিষার তেল, হলুদ গুড়া, মরিচ গুড়া , জিরা গুড়া, ধনিয়া গুড়া সম্পূর্ন আমাদের নিজস্ব তত্বাবধানে প্রস্তুতককৃত । তাই আচারের মান থাকে অক্ষুন্ন।

আমাদের আচার সম্পূর্ন ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি করা। এতে কোণো রকম কেমিকেল বা প্রিজারভেটিভস এড করা নেই।

আচার শুকানোর জণ্য বিশেষ প্রসেস অবলম্বন করা হয় এবং সর্বক্ষনিক পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে আচার শুকানো হয়। তাই আপনি পাবেন ১০০% ফ্রেশ এবং প্রিমিয়াম কোয়ালিটি প্রডাক্টের নীশ্চয়তা।

Leave a Reply